তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার (তৃতীয় অধ্যায়)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | NCTB BOOK
7.3k
Summary

এই অধ্যায় শেষে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে পারব:

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির সুরক্ষা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়।
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের পদ্ধতি।
  • কম্পিউটারের পিছনে বেশি সময় কাটালেও কি সমস্যা হতে পারে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-

  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কিছু কিছু যন্ত্রপাতি কেমন করে সুরক্ষা করা যায় তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • কম্পিউটারের পিছনে বেশি সময় দিলে কোনো সমস্যা হতে পারে কি-না তা বর্ণনা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রেহানার বাবা একটি কম্পিউটার কিনেছে। রেহানা কম্পিউটার দেখে খুশি খুশি। সে কম্পিউটারে গেম খেলতে পারবে। কিন্তু বাবা বলল কম্পিউটার কেবল গেম খেলার যন্ত্র নয়।

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

শিলা এক ধরনের ইনপুট ডিভাইস ব্যবহার করে কম্পিউটারে গেম খেলছিল। শিক্ষক শিলাকে অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারের অসুবিধা বুঝিয়ে দিলেন।

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

মুনিয়া তার কম্পিউটারে প্রচুর ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কিন্তু তার কম্পিউটারে কোন এন্টিভাইরাস ইনস্টল করা নেই। হঠাৎ একদিন মুনিয়া লক্ষ করল তার কম্পিউটারটি স্লো হয়ে গিয়েছে।

এক ধরনের জীবাণু
এক ধরনের রোগ
এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম
এক ধরনের উপকারী প্রোগ্রাম

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার (পাঠ ১)

1.1k

একটা সময় ছিল যখন ছোটো ছেলেমেয়েদের যেকোনো যন্ত্রপাতি থেকে সরিয়ে রাখা হতো। তোমরা দেখতেই পাচ্ছ সেই সময়টার পরিবর্তন হয়েছে। তোমাদের বয়সী ছেলেমেয়েদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি থেকে সরিয়ে না রেখে বরং সেগুলো ব্যবহার করতে শেখানো হচ্ছে। এই অধ্যায়টি লেখা হয়েছে তোমরা কম্পিউটার, প্রিন্টার বা মডেমের মতো যন্ত্রপাতি যেন নিরাপদে এবং নির্ভয়ে ব্যবহার করতে পার সেটি শিখিয়ে দেওয়ার জন্যে।

যারা কম্পিউটার তৈরি করে তারা জানে আজকাল শুধু বড়ো মানুষরাই নয়, ছোটরাও কম্পিউটার ব্যবহার করে। তাই সব কম্পিউটারই তৈরি করা হয় যেন এটি ব্যবহার করে কারও কোনো বিপদ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকে। কম্পিউটারের একমাত্র যে বিষয়টি নিয়ে সবারই একটু সতর্ক থাকা দরকার সেটি হচ্ছে তার বৈদ্যুতিক সংযোগ। ডেস্কটপ কম্পিউটারকে সব সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হয়। আর ল্যাপটপ কম্পিউটারকে তার ব্যাটারি চার্জ করার সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হয়। বিদ্যুতের ভোল্টেজ ৫০ ভোল্টের বেশি হলে আমরা সেটা অনুভব করতে পারি। আমাদের দেশের বিদ্যুৎপ্রবাহের ভোল্টেজ ২২০ ভোল্ট, কাজেই কোনোভাবে বিদ্যুতের তার আমাদের শরীর স্পর্শ করলে আমরা ভয়ানক বৈদ্যুতিক শক অনুভব করব। আমাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন করতে বা আমাদের মাংসপেশি ব্যবহার করে হাত পা নাড়াচাড়া করার জন্যে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ুর ভেতর দিয়ে সংকেত পাঠানো হয়। তোমরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে এগুলো বৈদ্যুতিক সংকেত এবং এর পরিমাণ খুবই অল্প। কেউ যখন বৈদ্যুতিক শক খায় তখন তার শরীরের ভেতর দিয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। মস্তিষ্ক থেকে পাঠানো ছোটো সংকেতগুলো তখন এই বড়ো বিদ্যুৎপ্রবাহের নিচে চাপা পড়ে যায়। সে জন্যে যখন কেউ বিদ্যুতায়িত হয়, তখন সে তার হাত পা নাড়াতে পারে না, বেশিক্ষণ হলে তার হৃৎস্পন্দন থেমে যেতে পারে। সে জন্যে বিদ্যুৎ সংযোগকে কখনো হেলাফেলা করে নিতে হয় না। বিদ্যুৎ ছাড়া আমরা আজকাল এক মুহূর্ত থাকতে পারি না। সব সময়ই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ রাখতে হবে আমরা যেন ঠিক করে এটা ব্যবহার করি। সব সময়েই যেন সঠিক সকেটে সঠিক প্লাগ ব্যবহার করে বিদ্যুতের সংযোগ নিই। আমরা কখনো খোলা তারের প্লাস্টিক সরিয়ে প্লাগে ঢুকিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেব না। শুধু তাই নয়, কাউকে এরকম করতে দেখলে বাধা দেবো।

বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টা ঠিক করে করা হলে কম্পিউটারের আর মাত্র একটি বিষয়ে একটু সতর্ক থাকা ভালো। আমরা আগেই বলেছি কম্পিউটারের প্রসেসর অনেক গরম হতে পারে বলে আজকাল সেগুলোর ওপর আলাদা ফ্যান বসাতে হয়। মাদারবোর্ডের অন্যান্য আইসিগুলোও অনেক গরম হতে পারে। তাই কম্পিউটারের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের থেকে অনেক বেশি হতে পারে। কম্পিউটারের ভেতর থেকে এই গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দেওয়ার জন্যে সব কম্পিউটারেই ফ্যান লাগানো হয়। এগুলো বাইরে থেকে বাতাস টেনে এনে ভেতরের গরম বাতাসকে ঠেলে বের করে দেয়।
কাজেই তোমরা যখনই একটা কম্পিউটার ব্যবহার করবে তখনই ভালো করে লক্ষ করবে কোন দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে আর কোন দিক দিয়ে গরম বাতাস বের হচ্ছে। সব সময়ই নিশ্চিত করবে যেন বাতাস ঢোকার এবং বের হওয়ার পথ কোনোভাবেই বন্ধ না হয়। শুধু এই বিষয়টা লক্ষ করলেই দেখবে তোমার কম্পিউটার তুমি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবে।

তোমরা হয়তো শুনে থাকবে কেউ কেউ বলে যে, কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্যে ঘরের ভেতর এয়ার কন্ডিশনার লাগিয়ে ঘরটাকে ঠান্ডা রাখতে হয়-এই কথাগুলো একেবারেই ঠিক নয়। যে তাপমাত্রা তুমি সহ্য করতে পারবে তোমার কম্পিউটার তার থেকে অনেক বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে।

Content added By

আইসিটি যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ (পাঠ ২)

3.5k

যারা গাড়ি চালায় তাদের কিছুদিন পর পর গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল পাল্টাতে হয়। যদি ঠিক করে রক্ষণাবেক্ষণ করা না হয় তাহলে গাড়িটি যে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হবে তাই নয়, এটা যাত্রীদের জন্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গাড়ির মতো অন্য অনেক যন্ত্রপাতিকে খুব ভালো করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। আমাদের খুব সৌভাগ্য যে কম্পিউটারের সে রকম রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয় না। তারপরও তোমরা যদি কিছু ছোটখাটো বিষয় লক্ষ রাখ, দেখবে তোমাদের কম্পিউটার দীর্ঘদিন তোমাদের সঙ্গী হয়ে থাকবে।

মনিটর পরিষ্কার: আজকাল বেশির ভাগ কম্পিউটারের মনিটর এলসিডি বা এলইডি মনিটর এবং এ ধরনের মনিটর তোমাদের পরিষ্কার করার চেষ্টা না করাই ভালো। এর পৃষ্ঠদেশ কাচ নয়। তাই পরিষ্কার করার চেষ্টা করার সময় খুব সহজে দাগ পড়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, পরিষ্কার করার সময় ঘষাঘষি করলে মনিটরের ভেতরে পিক্সেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে সিআরটি মনিটরে যদি ধুলোবালি পড়ে অপরিষ্কার হয় তাহলে প্রথমে নরম সুতি কাপড় দিয়ে মুছে সেটা পরিষ্কার করতে পারো। তারপরও যদি ময়লা থাকে তাহলে নরম সুতি কাপড়টিতে একটু গ্লাস ক্লিনার লাগিয়ে মুছে নিতে পারো। যদি গ্লাস ক্লিনার না থাকে তাহলে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ভিনেগার দিয়ে সেটাকে গ্লাস ক্লিনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারো।

মনে রাখবে, কম্পিউটারের যেকোনো অংশ পরিষ্কার করার সময় কম্পিউটার বন্ধ করে তার বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ করে দিতে হবে।

পানি বা তরল: কম্পিউটার ব্যবহার করার সময় তার খুব কাছাকাছি পানি বা কোনো ধরনের ড্রিংক না রাখা ভালো। হঠাৎ করে হাতে লেগে সেটা যদি তোমার কম্পিউটারের ওপর পড়ে যায় তাহলে সেটা তোমার কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে। পানি বা অন্যান্য পানীয় বিদ্যুৎপরিবাহী কম্পিউটারের ভেতরে ঢুকে গেলে বৈদ্যুতিক সার্কিটগুলো শর্ট সার্কিট হতে পারে। এরকম কিছু হলে সাথে সাথে কম্পিউটার বন্ধ করে দীর্ঘ সময় একটা ফ্যানের নিচে রেখে দাও যেন পানিটুকু শুকিয়ে যায়।

ধুলোবালি: আমাদের দেশে ধুলোবালি একটু বেশি। কম্পিউটারের ফ্যান যখন বাতাস টেনে নেয় তার সাথে ধুলোবালিও টেনে আনতে পারে, ধুলোবালি জমে যদি বাতাস ঢোকার এবং বের হওয়ার পথগুলো বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কম্পিউটার বেশি গরম হয়ে উঠতে পারে। তাই মাঝে মাঝে পরীক্ষা করে দেখ সেখানে বেশি ধুলো জমেছে কি না। জমে থাকলে একটু পরিষ্কার করে নিও। তবে নিজে থেকে কম্পিউটার খুলে কখনো তার ভেতরে পরিষ্কার করতে যেয়ো না।

কী-বোর্ড পরিষ্কার: কী-বোর্ডটি মাঝে মাঝে পরিষ্কার করা ভালো। কারণ, হাতের আঙ্গুল দিয়ে এটা ব্যবহার করা হয় বলে এখানে রাজ্যের রোগজীবাণু জমা হতে পারে। শুকনো নরম সুতি কাপড় দিয়ে কিগুলো মুছে কটন বাড দিয়ে প্রত্যেকটা কী-এর চারপাশ পরিষ্কার করা যায়। তারপর উল্টো করে কয়েকবার হালকা ঝাঁকি দিলে কী-বোর্ডটা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

মাউস পরিষ্কার: আজকাল প্রায় সব মাউস অপটিক্যাল মাউস, আলো প্রতিফলিত হয়ে এটা কাজ করে তাই মাউসের লেন্স যদি অপরিষ্কার থাকে তাহলে মাউস ঠিক করে কাজ নাও করতে পারে। মাউসটিতে যদি সত্যি সত্যি ধুলোবালি ময়লা জমা হয়ে থাকে তাহলে কম্পিউটার থেকে খুলে নিয়ে সেটা উল্টো করে যেখানে যেখানে ময়লা জমেছে কটন বাড দিয়ে সেটা পরিষ্কার করে নরম সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নাও।

কাজ
১. ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ল্যাবের বা অন্য কম্পিউটারগুলো পরীক্ষা করে দেখবে তার মনিটর, কী-বোর্ড এবং মাউস পরিষ্কার করার প্রয়োজন আছে কি-না।
২. তারা পরীক্ষা করে দেখবে বাতাস ঢোকার এবং বের হওয়ার জায়গায় ধুলো জমে বন্ধ হয়ে গেছে কি-না।
Content added By

সফটওয়‍্যার রক্ষণাবেক্ষণ (পাঠ ৩)

937

আমরা দেখেছি, একটা কম্পিউটারের দুটি অংশ থাকে- হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার। আগের পাঠ দুটিতে আমরা হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলেছি, কাজেই তোমরা প্রশ্ন করতে পারো তাহলে কি সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন নেই?
অবশ্যই আছে। যারা কম্পিউটার ব্যবহার করে তারা জানে যে, কম্পিউটারের হার্ডওয়‍্যারের যত্ন না নিলে যতটুকু যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় তার থেকে অনেক বেশি যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় কম্পিউটারের সফটওয়্যারের যত্ন নেওয়া না হলে।
এই যন্ত্রণাটুকুর কারণ হচ্ছে কম্পিটারের ভাইরাস। তোমরা নিশ্চয়ই রোগজীবাণু এবং ভাইরাসের কথা শুনেছ। এই রোগজীবাণু এবং ভাইরাসের কারণে আমরা মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ি- আমরা তখন ঠিক করে কাজ করতে পারি না। কম্পিউটার ভাইরাস ঠিক সেরকম এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যার কারণে একটা কম্পিউটার ঠিক করে কাজ করতে পারে না। সত্যিকারের রোগজীবাণু বা ভাইরাস যেমন একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের কাছে গিয়ে তাকে আক্রান্ত করতে পারে। কম্পিউটার ভাইরাসও একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সত্যিকারের ভাইরাস যে রকম মানুষের শরীরে এলে বংশবৃদ্ধি করে অসংখ্য ভাইরাসে পরিণত হয়, কম্পিউটার ভাইরাসও সেরকম। একটি কম্পিউটার ভাইরাস কোনোভাবে একটা কম্পিউটারে ঢুকতে পারলে অসংখ্য ভাইরাসে পরিণত হয়। সত্যিকারের ভাইরাস মানুষের অজান্তে মানুষকে আক্রান্ত করে, কম্পিউটার ভাইরাসও সবার অজান্তে একটা কম্পিউটারে বাসা বাঁধে!
সত্যিকারের ভাইরাস এবং কম্পিউটারের ভাইরাসের মাঝে শুধু একটি পার্থক্য, একটি প্রকৃতিতে আগে থেকে আছে, অন্যটি অসৎ মানুষেরা সবাইকে কষ্ট দেবার জন্যে তৈরি করছে

মানুষের তৈরি কম্পিউটার ভাইরাস আসলে একটি ছোটো প্রোগ্রাম ছাড়া আর কিছুই নয়। আজকাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক দিয়েও এটি খুব সহজে অনেক কম্পিউটারের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটা কম্পিউটার থেকে তুমি যদি কোনো সিডি বা পেনড্রাইভে করে কিছু একটা কপি করে নাও তাহলে নিজের অজান্তে সেখান থেকে ভাইরাসটাও কপি করে ফেলতে পার। তাই অন্য কম্পিউটার থেকে কিছু কপি করতে হলে সব সময়ই খুব সতর্ক থাকা উচিত।
কম্পিউটার ভাইরাস কিন্তু রোগ জীবাণু ভাইরাসের মতো নয়, সেটা আমাদের অসুস্থ করতে পারে না! এই ভাইরাস পাশাপাশি এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে যেতে পারে না। এটি যেতে পারে শুধুমাত্র তথ্য উপাত্ত কপি করার সময় বা নেটওয়ার্ক দিয়ে।

কম্পিউটার ভাইরাস থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করার জন্যে আজকাল নানা ধরনের এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম পাওয়া যায়। তবে কিছু দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ নিয়মিতভাবে নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি করে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়। তাই যারা কম্পিউটার ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে চায় তাদের নিয়মিত নতুন নতুন এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম কিনতে হয়। সেটি সাধারণ মানুষের জন্যে অনেক খরচের ব্যাপার।
তবে মুক্ত সফটওয়্যার বা ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের জন্যে ভাইরাস তৈরি করা হয় না। কাজেই কেউ যদি মুক্ত সফটওয়্যারের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে, তাহলে তারা এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারে।

কাজ
সত্যিকারের ভাইরাস আর কম্পিউটারের ভাইরাসের মাঝে কোথায় কোথায় মিল রয়েছে আর কোথায় কোথায় মিল নেই তার একটা তালিকা তৈরি কর।
Content added By

আইসিটি ব্যবহারে ঝুঁকি ও সতর্কতা অবলম্বনের পন্থা (পাঠ ৪ ও ৫)

4.8k

দুধ খুব পুষ্টিকর খাবার। শিশুদের নিয়মিত দুধ খাওয়া ভালো। কিন্তু আমরা যদি একটা দুধের ড্রামে একটা শিশুকে ফেলে দিই তাহলে এই দুধের ড্রামেই তার ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। যার অর্থ একটা জিনিস খুব ভালো হলেও সেটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হলে সেটাও তোমার জন্যে বিপদ হয়ে যেতে পারে। কম্পিউটারের বেলাতেও সেটা সত্যি!
কম্পিউটার তৈরি করা হয়েছে আমাদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার জন্যে, এটা সেভাবেই ব্যবহার করা উচিত কিন্তু আমরা যদি এটাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে শুরু করি, তাহলে সেটা বিপদের কারণ হতে পারে।
কম্পিউটার ব্যবহার করতে একটু বুদ্ধিমত্তার দরকার হয়। তাই অনেক বাবা-মা তাদের খুব ছোটো বাচ্চাকে এটা নিয়ে খেলতে দেন। অনেক সময়েই দেখা যায়, কিছু ছোটো শিশু কম্পিউটার গেমে আসক্ত হয়ে গেছে এবং দিনরাত কম্পিউটার গেম খেলছে। এটা তার জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। যেই বয়সে মাঠে বন্ধুবান্ধবের সাথে ছোটাছুটি করে খেলার কথা, সেই সময়ে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থেকে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। শারীরিক অসুস্থতা থেকে মানসিক অসুস্থতা অনেক বেশি বিপজ্জনক।

অনেক বেশি সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে শারীরিক সমস্যাও শুরু হয়ে যেতে পারে। পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, আঙুলে ব্যথা, চোখের সমস্যা- এরকম হতে শুরু করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই!
আরেকটু বড়ো তরুণ-তরুণীদের নিয়ে কম্পিউটারে ভিন্ন এক ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। একজন মানুষ অন্যজনের সাথে আজকাল কম্পিউটার ব্যবহার করে সামাজিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে। সাধারণ খোঁজখবর নেওয়ার জন্যে এটি সহজ একটা পথ হলেও প্রায় সময়ই দেখা যায় অনেকেই এটাকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই মনে করে এটিই বুঝি সত্যিকারের সামাজিক সম্পর্ক। তাই মানুষের সাথে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্কটার কথা তারা ভুলে যায়। এই ছেলেমেয়েগুলো অনেক সময়েই অসামাজিক মানুষ হয়ে বড়ো হতে থাকে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে অনেক নতুন প্রযুক্তি। তাই আমরা এখনো তার পুরো ক্ষমতাটা বুঝে উঠতে পারিনি। একদিকে আমরা তার ভালো কিছু করার ক্ষমতাটা বুঝতে পারছি। কিন্তু আমাদের নিজেদের অজান্তে এটা যেন আমাদের ক্ষতি করতে না পারে সেটাও দেখতে হবে।
তোমরা যারা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নিজের জীবনে ব্যবহার করবে, তারা সব সময়ই মনে রেখো, তোমরা যেন প্রযুক্তিটাকে ব্যবহার কর, প্রযুক্তি যেন কখনই তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে।

কাজ-(পাঠ-৪)
যাদের অনেক বেশি সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয় তাদের জন্যে ডাক্তারগণ এক ধরনের পিঠে ব্যায়াম বের করেছেন, তোমরা ইচ্ছে করলে এই ব্যায়ামটা করে দেখতে পার।

  • সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অথবা বসে দুই বাহু সামনের দিকে প্রসারিত করে নিচে ও ওপরে কয়েকবার ঝাঁকাও।
  • হাতের আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ কর এবং খুলে দাও। এভাবে ১০ বার অনুশীলন কর।
  • এক হাতের আঙুলগুলোকে অপর হাতের আঙুলে প্রবেশ করে শক্ত করে ধরে কয়েকবার সামনে-পিছনে কর।
  • সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঘাড় ডানদিকে কাত করে কয়েক সেকেন্ড রেখে সোজা হও। আবার বাম দিকে কাত করে কয়েক সেকেন্ড রেখে সোজা হও। এরূপ কয়েকবার অনুশীলন কর।
  • ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকে চিবুক বুকের সাথে লাগাও এবং কয়েক সেকেন্ড অবস্থান করে পিছনের দিকে যতটুকু পার নিচু কর। এটি কয়েকবার অনুশীলন কর।

কাজ-(পাঠ-৫)
ওপরের ছবিটিতে আইসিটি ব্যবহারে কী কী ভুল করা হয়েছে বের কর।

  • তোমরা নিজেরা আরও কিছু ভুল সংযোজন করে আরেকটা ছবি আঁক।
  • একটি পূর্ণ শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা এ কাজটি করবে।
Content added By

নমুনা প্রশ্ন

594

১. আমাদের দেশে বিদ্যুৎপ্রবাহের ভোল্টেজ কত?

ক. ২০০
খ. ২২০
গ. ২৪০
ঘ. ২৬০

২. কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে কোন বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকা উচিত?

ক. সময়ের
খ. বৈদ্যুতিক সংযোগ
গ. মানসিক ক্লান্তি
ঘ. দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া

৩. সিআরটি মনিটর পরিষ্কার করার জন্য প্রথমে কী ব্যবহার করা উচিত?

ক. নরম সুতি কাপড়
খ. মোটা সুতি কাপড়
গ. ভেজা সুতি কাপড়
ঘ. গ্লাস ক্লিনার

৪. আইসিটি যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার বলতে বোঝায়-
i. আইসিটি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ
ii. স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে আইসিটির নিরাপদ ব্যবহার
iii. আইসিটি যন্ত্রপাতির ক্ষতির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii
খ. i ও iii
খ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৫. হার্ডওয়্যার পরিষ্কার করার সময় শুরুতে কোন কাজটি করতে হয়?

ক. কক্ষের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা
খ. কম্পিউটারের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা
গ. অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
ঘ. কম্পিউটার বন্ধ করে দেওয়া

অনুচ্ছেদটি পড়ে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
ভুল করে জানালা খোলা রেখেই সালমা মা-বাবার সাথে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল। বাসায় ফিরে এসে দেখে তার কম্পিউটারের কী-বোর্ড ও মাউস ঠিকমতো কাজ করছে না।

৬. সালমার কম্পিউটারের কী-বোর্ড ও মাউস ঠিকমতো কাজ না করার কারণ-

i. কক্ষটিতে অতিরিক্ত ধুলোবালির প্রবেশ
ii. কম্পিউটার কক্ষে এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার না করা
iii. কম্পিউটার রক্ষণাবেক্ষণে অসতর্কতা
নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৭. সালমা তার মাউসটি পরিষ্কার করতে প্রথমে কী ব্যবহার করতে পারে?

ক. গ্লাস ক্লিনার
খ. ভেজা নরম কাপড়
গ. সুতি কাপড়
ঘ. কটন বাড

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...